মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেন কী? সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও উদাহরণসহ ব্যাখ্যা | মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেন সৃজনশীল ২
ব্যবসায়ের লেনদেন: মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেনের সহজ ব্যাখ্যা
একটি ব্যবসায়ের চলমান প্রক্রিয়ায় প্রতিনিয়ত নানান ধরনের লেনদেন সংঘটিত হয়। এসব লেনদেনের মধ্যে কিছু লেনদেনের সুবিধা স্বল্পমেয়াদি এবং কিছু লেনদেনের সুবিধা দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে। হিসাববিজ্ঞানে এই সুবিধার সময়কালকে ভিত্তি করে লেনদেনকে মূলত মূলধন জাতীয় ও মুনাফা জাতীয়—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
এই বিভাজনটি সঠিকভাবে বুঝতে পারলে হিসাব প্রস্তুত করা, মুনাফা নির্ণয় এবং পরীক্ষার MCQ—সব ক্ষেত্রেই বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যায়।
🔹 মুনাফা জাতীয় লেনদেন কী?
যেসব লেনদেনের সুবিধা বা কার্যকারিতা একটি নির্দিষ্ট হিসাবকালের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়, সেগুলোকে মুনাফা জাতীয় লেনদেন বলা হয়।
এই ধরনের লেনদেন সাধারণত—
-
নিয়মিত সংঘটিত হয়
-
স্বল্পমেয়াদি উপকার দেয়
-
চলতি হিসাবকালেই আয় বা ব্যয় হিসেবে গণ্য হয়
🔹 মূলধন জাতীয় লেনদেন কী?
যেসব লেনদেনের সুবিধা একাধিক হিসাবকাল পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, সেগুলোকে মূলধন জাতীয় লেনদেন বলা হয়।
এই লেনদেনগুলো সাধারণত—
-
অনিয়মিতভাবে সংঘটিত হয়
-
টাকার অংকে বড় হয়
-
দীর্ঘমেয়াদি উপকার প্রদান করে
মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেনের শ্রেণিবিভাগ
১️⃣ মূলধন জাতীয় প্রাপ্তি
যে সকল প্রাপ্তি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত সংঘটিত হয়, টাকার অংকে বড় এবং একাধিক হিসাবকাল পর্যন্ত সুবিধা দেয়—সেগুলোই মূলধন জাতীয় প্রাপ্তি।
উদাহরণ:
-
মালিকের মূলধন আনায়ন
-
ঋণ গ্রহণ
-
স্থায়ী সম্পত্তি বিক্রয়
২️⃣ মূলধন জাতীয় আয়
মূলধন জাতীয় প্রাপ্তির মাধ্যমে যে অতিরিক্ত লাভ হয়, সেটাই মূলধন জাতীয় আয়।
উদাহরণ:
একটি স্থায়ী সম্পত্তির ক্রয়মূল্য = ৬৫,০০০ টাকা
বিক্রয়মূল্য = ৮০,০০০ টাকা
➡ মূলধন জাতীয় আয় = ১৫,০০০ টাকা
৩️⃣ মূলধন জাতীয় ব্যয়
যেসব ব্যয় অনিয়মিত, টাকার অংকে বড় এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেয়—সেগুলো মূলধন জাতীয় ব্যয়।
উদাহরণ:
-
স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয়
-
সম্পত্তি ক্রয়ের আনুষঙ্গিক ব্যয়
-
বড় ধরনের মেরামত
-
ব্যবসায়িক উন্নয়ন ব্যয়
৪️⃣ মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তি ও আয়
যেসব প্রাপ্তি ও আয় নিয়মিত হয় এবং একটি হিসাবকালেই উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়—সেগুলো মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তি ও আয়।
🔹 মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তি → নগদে যা পাওয়া যায়
🔹 মুনাফা জাতীয় আয় → নগদ ও বাকীতে অর্জিত মোট আয়
উদাহরণ:
বিক্রয়, ভাড়া, কমিশন, সুদ, ব্যাংক জমার সুদ, লভ্যাংশ, সেবা আয়, পুরাতন কাগজ বিক্রয় ইত্যাদি।
৫️⃣ মুনাফা জাতীয় প্রদান ও ব্যয়
যেসব প্রদান ও ব্যয় নিয়মিত সংঘটিত হয় এবং চলতি হিসাবকালেই শেষ হয়ে যায়—সেগুলো মুনাফা জাতীয় প্রদান ও ব্যয়।
উদাহরণ:
-
ক্রয় ও ক্রয় পরিবহণ
-
বেতন ও মজুরি
-
বিজ্ঞাপন খরচ
-
অফিস ভাড়া
-
বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি
-
নিরীক্ষা ফি
-
ব্যাংক চার্জ
-
অবচয়, কুঋণ, বিমা প্রিমিয়াম ইত্যাদি
৬️⃣ বিলম্বিত মুনাফা জাতীয় ব্যয়
কিছু ব্যয় আছে যেগুলো চলতি হিসাবকাল ছাড়াও ভবিষ্যৎ একাধিক হিসাবকালে সুবিধা দেয়। এসব ব্যয়কে বলা হয় বিলম্বিত মুনাফা জাতীয় ব্যয়।
এ ধরনের ব্যয়—
-
একাধিক হিসাবকালে ভাগ করে নেওয়া হয়
-
চলতি অংশ → মুনাফা জাতীয় ব্যয়
-
অবশিষ্ট অংশ → মূলধন জাতীয় ব্যয়
উদাহরণ:
-
নতুন পণ্যের অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন ব্যয়
-
গবেষণা ব্যয়
-
ব্যবসা স্থানান্তর ব্যয়
৭️⃣ আবর্তক বা নিয়মিত খরচ
যেসব খরচ নিয়মিতভাবে ব্যবসায়ে সংঘটিত হয়, সেগুলোকে আবর্তক খরচ বলা হয়।
মূলত সব মুনাফা জাতীয় ব্যয়ই আবর্তক খরচের অন্তর্ভুক্ত।
✨ উপসংহার
মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেনের সঠিক পার্থক্য না জানলে হিসাবের ফলাফল ভুল হতে পারে। তাই একজন শিক্ষার্থী, হিসাবরক্ষকর জন্য এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চলুন এবার আমরা আমাদের মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেন সৃজনশীল ২ প্রশ্নটার ভিডিও দেখে নিই।
📌 Commerce Hunters – কমার্স হান্টার্স–এর সঙ্গে থাকলে এ ধরনের জটিল হিসাব বিষয়ও হবে সহজ ও সাবলীল।
__ About This Site __
কোন মন্তব্য নেই