হিসাববিজ্ঞানের গিরগিটি কী? একই হিসাবের ভিন্ন নাম এক পোস্টে
হিসাববিজ্ঞানের গিরগিটি: একই হিসাব, ভিন্ন ভিন্ন নাম
হিসাববিজ্ঞান পড়তে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীরই একটি সাধারণ অভিযোগ—
“স্যার, জিনিস তো একটাই, কিন্তু নাম এত কেন?”
আসলে এই সমস্যার মূলে রয়েছে হিসাববিজ্ঞানের কিছু বিশেষ শব্দ, যেগুলো স্থান, পরিস্থিতি ও প্রয়োগভেদে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। ঠিক যেমন গিরগিটি পরিবেশ বদলালে রং বদলায়, তেমনি একই হিসাব ভিন্ন অবস্থায় ভিন্ন নামে পরিচিত হয়। এ কারণেই এসব হিসাবকে মজা করে বলা হয় “হিসাববিজ্ঞানের গিরগিটি”।
এই গিরগিটিদের না চিনলে MCQ, সৃজনশীল প্রশ্ন কিংবা ভর্তি পরীক্ষায় বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই চলুন, এক নজরে হিসাববিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গিরগিটিগুলো চিনে নেওয়া যাক।
১. ক্রয় ফেরত (Purchase Return):
যখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্রয়কৃত পণ্য সরবরাহকারীকে ফেরত দেয়, তখন সেটি শুধু ক্রয় ফেরত নামেই পরিচিত নয়। প্রশ্নে এটি আসতে পারে—
বহিঃ ফেরত, ক্রয় প্রত্যাবর্তন, সরবরাহকারীকে ফেরত—এই নামগুলোতে।
নাম যাই হোক, মূল বিষয় একটাই: ক্রয় বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
২. বিক্রয় ফেরত (Sales Return):
গ্রাহক যখন ক্রয়কৃত পণ্য ফেরত দেয়, তখন সেটি হলো বিক্রয় ফেরত। তবে প্রশ্নে দেখা যেতে পারে—
আন্ত ফেরত, বিক্রয় প্রত্যাবর্তন, গ্রাহক কর্তৃক ফেরত।
এই শব্দগুলো দেখলে বুঝতে হবে—বিক্রয় কমছে।
৩. নগদ (Cash):
নগদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গিরগিটির রূপ দেখা যায়।
হাতে নগদ, নগদ তহবিল, নগদ অর্থ, নগদ টাকা, তৎক্ষণাৎ প্রদেয় অর্থ—সবই আসলে Cash।
MCQ-তে এসব শব্দ দেখেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
৪. দেনাদার (Debtors / Accounts Receivable):
যাদের কাছে প্রতিষ্ঠানের টাকা পাওনা থাকে, তারা হলো দেনাদার।
এদের পরিচয়ও অনেক নামে দেওয়া হয়—
প্রাপ্য হিসাব, পাওনা, প্রাপ্য ব্যক্তি, প্রস্তুক ঋণ, বিক্রয় খতিয়ানের জের, এআর (AR), উর্ধমন।
সব ক্ষেত্রেই অর্থ একটাই—আমাদের টাকা পাওয়া বাকি।
৫. পাওনাদার (Creditors / Accounts Payable):
যাদের কাছে আমাদের টাকা দিতে হবে, তারা হলো পাওনাদার।
প্রশ্নে আসতে পারে—
প্রদেয় হিসাব, দেনা, ক্রয় খতিয়ানের জের, এপি (AP), অধমন।
এগুলো দেখলেই বুঝতে হবে—এটি একটি দায় (Liability)।
৬. ঋণ (Loan):
ঋণও হিসাববিজ্ঞানের বড় গিরগিটি।
ঋণপত্র, বন্ধকী ঋণ, ব্যাংক ঋণ, গৃহীত ঋণ, ধার, দায়বদ্ধ ঋণ, বন্ড, ডিবেঞ্চার—সবই কোনো না কোনো ধরনের ঋণ বা দায় নির্দেশ করে।
৭. বিনিয়োগ (Investment):
প্রতিষ্ঠান যখন ভবিষ্যৎ লাভের উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যয় করে, সেটি বিনিয়োগ।
প্রশ্নে দেখা যেতে পারে—
সঞ্চয়পত্র, লগ্নিপত্র, সেভিংসপত্র, প্রদত্ত ঋণ, শেয়ার ক্রয়, সিকিউরিটিজ ক্রয়, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ।
নাম ভিন্ন হলেও হিসাব একই।
৮. ব্যাংক জমা (Bank Balance):
ব্যাংক ব্যালেন্স, ব্যাংক ডিপোজিট, ব্যাংক জমার উদ্বৃত্ত, ব্যাংক হিসাব, ব্যাংক রক্ষিত, ব্যাংক আমানত—সবই ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ বোঝায়।
৯. ব্যাংক জমাতিরিক্ত (Bank Overdraft):
ব্যাংকে জমার চেয়ে বেশি টাকা উত্তোলন করলে সেটি হয় ব্যাংক জমাতিরিক্ত।
এটি প্রশ্নে আসতে পারে—
ব্যাংক ওভারড্রাফ্ট, ব্যাংক ঋণাত্মক ব্যালেন্স, ব্যাংক জমার ঘাটতি, ই.ঙ.উ, ঙ.উ নামে।
১০. পুঞ্জিভুত অবচয় (Accumulated Depreciation):
অবচয় সঞ্চিতি, ক্রমোযোজিত অবচয়, সঞ্চিত অবচয়, মোট অবচয়—সবই একই অর্থ বহন করে।
১১. অনাদায়ী পাওনা (Bad Debts):
যে পাওনা আর আদায় হবে না, সেটি হলো—
কুঋণ, অপ্রাপ্য পাওনা, অনুদ্ধারযোগ্য পাওনা, ক্ষতিগ্রস্ত পাওনা।
উপসংহার:
হিসাববিজ্ঞানে সফল হতে হলে শুধু হিসাব জানা যথেষ্ট নয়, বরং একই হিসাবের ভিন্ন ভিন্ন নাম চেনা অত্যন্ত জরুরি। এই “হিসাববিজ্ঞানের গিরগিটি”গুলো ভালোভাবে আয়ত্তে আনতে পারলে MCQ, সৃজনশীল প্রশ্ন, এমনকি ভর্তি পরীক্ষায়ও আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে।
👉 নিয়মিত এমন কনসেপ্টভিত্তিক লেখা পেতে Commerce Hunters – কমার্স হান্টার্স-এর সঙ্গে থাকুন।
__ About This Site __
Best Video forever
উত্তরমুছুন